বাজার সেরা কম দামে ৭টি ভালো প্রিন্টার
বাজেটের মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া সেরা প্রিন্টারগুলোর বিস্তারিত রিভিউ, স্পেসিফিকেশন ও কেনার গাইড।
বাজেটে প্রিন্টার কেনা মানেই কম্প্রোমাইজ নয়
বাজেটের মধ্যে সেরা প্রিন্টার কেনার সময় শত শত ব্র্যান্ডের হাজার হাজার মডেলের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাভাবিক। মার্কেটে এত অপশন যে, ঠিক কোন প্রিন্টারটা নিজের জন্য পারফেক্ট হবে সেটা বোঝা অনেকের জন্যই কনফিউজিং। কেউ চান স্পিড, কেউ কালার কোয়ালিটি, কেউ আবার লো কস্টে লং-টার্ম সলিউশন। বিশেষ করে অ্যাপেল ব্যবহারকারীদের জন্য কম্প্যাটিবিলিটি আর ইজি ইউজও একটা বড় ব্যাপার। এই গাইডে আমরা কয়েকটি বেস্ট ভ্যালু ফর মানি প্রিন্টার নিয়ে আলোচনা করেছি, যেগুলো পকেট ফ্রেন্ডলি হওয়ার পাশাপাশি ডেইলি লাইফে রিয়েল ইউজে দারুণ পারফর্ম করে।
প্রিন্টার কেনার আগে প্রথমেই নিজের প্রয়োজন স্পষ্ট করুন। শুধু টেক্সট ডকুমেন্ট প্রিন্ট করবেন নাকি কালার ফটো বা স্টিকারও প্রিন্ট করতে হবে? অল-ইন-ওয়ান (প্রিন্ট, স্ক্যান, কপি) ফিচার দরকার কিনা তা ভাবুন। এরপর ইঙ্কজেট বনাম লেজার, প্রিন্ট স্পিড (ppm), ইঙ্ক বা টোনার কস্ট এবং কানেক্টিভিটি (USB/Wi-Fi) মাথায় রাখুন। কম দামে ভালো প্রিন্টার বেছে নিতে এই বিষয়গুলো একসাথে বিবেচনা করাই মূল কৌশল।
প্রিন্টার কেনার আগে যেসব বিষয় দেখবেন
ইঙ্কজেট বনাম লেজার
ইঙ্কজেট প্রিন্টার কালার ডকুমেন্ট ও ফটো প্রিন্টিংয়ে ভালো আউটপুট দেয় এবং দাম তুলনামূলক কম। লেজার প্রিন্টার দ্রুত ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট টেক্সট প্রিন্ট করে এবং প্রতি পেজ খরচ কম হয়, তাই অফিসে হেভি ইউজের জন্য উপযুক্ত।
প্রিন্ট স্পিড ও রেজোলিউশন
ppm (pages per minute) বেশি হলে দ্রুত প্রিন্ট হয়। DPI রেজোলিউশন বেশি হলে টেক্সট ও ছবি শার্প ও ক্লিয়ার দেখায়। ফটো প্রিন্টিংয়ের জন্য উচ্চ DPI জরুরি।
ইঙ্ক বা টোনার খরচ
প্রিন্টারের প্রাইসের চেয়ে ইঙ্ক বা টোনারের রিপ্লেসমেন্ট খরচ দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কম খরচে বেশি পেজ প্রিন্ট করতে পারে এমন কার্টিজ বা টোনার থাকলে ভালো।
অল-ইন-ওয়ান ফিচার
প্রিন্ট, স্ক্যান ও কপি—তিনটি ফিচার একসাথে থাকলে হোম বা স্টুডেন্ট ইউজে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় এবং আলাদা ডিভাইস কেনার খরচ বাঁচে।
কানেক্টিভিটি
USB কানেক্টিভিটি সবচেয়ে সহজ সেটআপ দেয়। Wi-Fi থাকলে মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে ওয়্যারলেস প্রিন্ট করা যায়, তবে বাজেট মডেলে এটি সবসময় থাকে না।
বাজেটের মধ্যে সেরা ৫টি প্রিন্টার
১. Canon Pixma IP 2770
Canon Pixma IP 2770 একটি সিম্পল, রিলায়েবল সিঙ্গেল ফাংশন ইনকজেট প্রিন্টার, যা বিশেষ করে কালার ডকুমেন্ট আর ফটো প্রিন্টিংয়ে ভালো আউটপুট দেয়। সুপার ব্রাইট রেজোলিউশন ফটো প্রিন্টকে শার্প ও ক্লিয়ার করে তোলে। সাধারণ কাজের জন্য ৭ ppm ব্ল্যাক এবং ৪.৮ ppm কালার স্পিড ঠিকঠাক পারফরম্যান্স দেয়। বর্ডারলেস প্রিন্টিং টেকনোলজি থাকায় হোম ইউজে ছোটখাটো ফটো প্রিন্টিং বেশ কনভিনিয়েন্ট। USB কানেক্টিভিটি থাকায় সেটআপ করাও সহজ। মোটের ওপর, এটা একটা বাজেট-ফ্রেন্ডলি, কমপ্লিকেটেড ফিচার ছাড়া সরল ও ঝামেলাহীন ব্যবহারকারীর জন্য পারফেক্ট। স্টুডেন্ট, হোম ইউজার বা ছোট অফিস—যারা মাঝে মাঝে ডকুমেন্ট আর ফটো প্রিন্ট করেন, তাদের জন্য এটা বেস্ট অপশন। ভ্যালু ফর মানি ও ফটো প্রিন্টিং এক্সপেরিয়েন্স গুরুত্বপূর্ণ যাদের কাছে, তাদের জন্য এটি চমৎকার চয়েস।
২. HP DeskJet Ink Advantage 2336
HP DeskJet Ink Advantage 2336 একটি অল-ইন-ওয়ান সলিউশন। এক বাক্যে বললে প্রিন্ট, স্ক্যান ও ফটোকপি—সব গুলো ফিচার একসাথে পাওয়া যায়। যারা হোম বা স্টুডেন্ট ইউজে মাল্টি-পারপাস কাজ করেন, তাদের জন্য এর সিম্পল অপারেশন খুব সাহায্যকারী। ৭.৫ ppm ব্ল্যাক এবং ৫.৫ ppm কালার স্পিডে নরমাল ডকুমেন্ট প্রিন্টিং অনায়াসে হয়। ক্লিয়ার প্রিন্টিং রেজোলিউশন, বাজেট ফ্রেন্ডলি কার্টিজ এবং কমপ্যাক্ট ডিজাইন এটিকে হোম ইউজারদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলে। USB কানেক্টিভিটি থাকায় সেটআপ সহজ এবং প্রতিদিনের প্রিন্টিং চাহিদা মেটাতে এটি নির্ভরযোগ্য।
৩. Pantum P2506
Pantum P2506 একটি বাজেট ফ্রেন্ডলি মনো লেজার প্রিন্টার, যা স্পিড আর ইফিশিয়েন্সির জন্য পরিচিত। সুপার ২২ ppm স্পিডে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ডকুমেন্ট প্রিন্ট করা যায়, যা ব্যস্ত অফিস বা ফাস্ট আউটপুট দরকার এমন ইউজারদের জন্য দারুণ উপযোগী। হ্যাভি ডিউটি সাইকেল (১৫,০০০ পেজ) থাকায় এটি হেভি ইউজ সামলাতে সক্ষম। ১৫০ পেজ ইনপুট ট্রে এবং বিভিন্ন পেপার সাইজ সাপোর্ট করে, যা এই বাজেটে রেয়ার। সুপার ক্লিন রেজোলিউশন নরমাল টেক্সটকে শার্প রাখে এবং USB কানেক্টিভিটি থাকায় সেটআপ সহজ। যারা রেগুলারলি অনেক ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ডকুমেন্ট প্রিন্ট করেন—ছোট অফিস, দোকান, বিজনেস কাউন্টার বা স্টুডেন্ট যাদের নোট বহু প্রিন্ট করতে হয়—তাদের জন্য এটা নিঃসন্দেহে বেস্ট।
৪. Canon Pixma TS207
যারা ৭ হাজার টাকার আশেপাশে কালার প্রিন্টিং ফিচারসহ ভালো মানের একটি প্রিন্টার খুঁজছেন, তারা Canon ব্র্যান্ডের TS207 দেখতে পারেন। এটি মূলত Pantum P2506-এর মতো পারফরম্যান্স দেয়, তবে বাড়তি সুবিধা হলো কালার প্রিন্টিং অ্যাবিলিটি। সর্বোচ্চ ৭.৭ ipm স্পিড আর কম সময়ে প্রথম প্রিন্ট আউট টাইমের কারণে এটি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে। হাই DPI রেজোলিউশন থাকায় সাদা-কালো কিংবা কালার প্রিন্টে টেক্সট আউটপুট খুবই ক্লিয়ার। অফিসিয়াল A4 পেপার, ফটো পেপার বা স্টিকার পেপার—সব পেপারে প্রিন্টিং স্মুথলি হয়। হোম ইউজার, ছোট অফিস বা মাল্টি-ডিভাইস সেটআপে ব্ল্যাক ও কালার প্রিন্টিং চাইলে এটি পারফেক্ট। লাইট ওয়েট ডিজাইন এই মডেলকে আরও স্মার্ট ও ইজি-টু-ইউজ করে তোলে।
৫. HP DeskJet 2320
HP DeskJet 2320 একটি সিম্পল, ফাস্ট আর রিলায়েবল অল-ইন-ওয়ান প্রিন্টার। এই বাজেটে অল-ইন-ওয়ান প্রিন্টার রেয়ার। এই প্রিন্টার দিয়ে সহজে প্রিন্ট, ফটোকপি এমনকি স্ক্যানও করা যায়। যারা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ডকুমেন্ট প্রিন্টিংয়ের সাথে কালার প্রিন্ট করেন তাদের জন্য এটা বেস্ট অপশন। মিনিটে সর্বোচ্চ ৭টি সাদা-কালো ও সর্বোচ্চ ৫টি কালার প্রিন্ট করতে পারে। বড় ডিউটি সাইকেল থাকায় নিয়মিত অনেক প্রিন্ট হ্যান্ডেল করতে পারে। আউটপুট শার্প, তাই অফিসিয়াল ডকুমেন্ট বা ফরমাল পেপারগুলো খুব ক্লিন দেখায়। বিভিন্ন পেপার টাইপ সাপোর্ট করে, তাই অফিস–স্কুল–ব্যবসায়িক যে কোনো কাজেই এটা এফিশিয়েন্ট। প্লেইন USB কানেকশন সেটআপ এটাকে আরও ঝামেলাহীন করে তোলে। যারা ডিসেন্ট ফিচার আন্ডার বাজেট ও শুধু পেপার প্রিন্টিং চান, তাদের জন্য এটি দারুণ চয়েস।
FAQ
ইঙ্কজেট নাকি লেজার প্রিন্টার কোনটি ভালো?
ফটো ও কালার ডকুমেন্ট প্রিন্টিংয়ের জন্য ইঙ্কজেট ভালো। ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট টেক্সট দ্রুত ও কম খরচে প্রিন্ট করতে লেজার প্রিন্টার উপযুক্ত। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন।
বাজেট প্রিন্টারের ইঙ্ক খরচ কেমন হয়?
ইঙ্কজেট প্রিন্টারে প্রতি পেজ খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে, তবে অরিজিনাল কার্টিজ ব্যবহার করলে প্রিন্ট কোয়ালিটি ভালো থাকে। লেজার প্রিন্টারে টোনার রিপ্লেসমেন্ট খরচ কম এবং বেশি পেজ প্রিন্ট করা যায়।
অল-ইন-ওয়ান প্রিন্টার কি প্রয়োজন?
হোম, স্টুডেন্ট বা ছোট অফিস ইউজে স্ক্যান ও কপি ফিচার থাকলে আলাদা ডিভাইস কেনার খরচ বাঁচে। তাই বাজেটের মধ্যে অল-ইন-ওয়ান মডেল বেছে নেওয়া স্মার্ট সিদ্ধান্ত।
প্রিন্টার কীভাবে মেইনটেন করব?
নিয়মিত প্রিন্ট করলে হেড ড্রাই হওয়ার ঝুঁকি কমে। ইঙ্কজেট প্রিন্টারে মাসে অন্তত একবার নজল ক্লিনিং রান করান এবং প্রিন্টার ধুলামুক্ত রাখুন। অব্যবহৃত থাকলে কার্টিজ খুলে রাখবেন না, কারণ তাতে ড্রাই হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
উপসংহার
বাজেট রেঞ্জে ভালো প্রিন্টার বেছে নেওয়া শুধু দামের ওপর নির্ভর করে না; প্রিন্ট স্পিড, রেজোলিউশন, ইঙ্ক খরচ এবং কানেক্টিভিটি একসাথে বিবেচনা করাই মূল বিষয়। এই গাইডে উল্লেখিত প্রতিটি মডেলই বাস্তব ব্যবহার ও ফিচারের ভিত্তিতে বাছাই করা হয়েছে। নিজের প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সেরা প্রিন্টার বেছে নিয়ে প্রিন্টিং কাজকে করুন আরও সহজ।
প্রিন্টার মেইনটেনেন্স টিপস
প্রিন্টার দীর্ঘদিন ভালো রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার ও যত্ন নেওয়া জরুরি। পেপার ট্রেতে ধুলামুক্ত পেপার ব্যবহার করুন এবং জ্যাম হলে সাবধানে পেপার বের করুন। ইঙ্কজেট প্রিন্টারে মাসে অন্তত একবার নজল ক্লিনিং রান করান এবং প্রিন্টার ধুলামুক্ত রাখুন। কার্টিজ শেষ হওয়ার আগেই রিপ্লেসমেন্ট প্ল্যান করুন এবং অরিজিনাল বা বিশ্বস্ত থার্ড-পার্টি কার্টিজ ব্যবহার করুন। লেজার প্রিন্টারে টোনার ড্রাম পরিষ্কার রাখুন এবং ফিউজার ইউনিট নিয়মিত চেক করুন। প্রিন্টার ব্যবহার না করার সময় ঢাকনা বন্ধ রাখুন যাতে ধুলাবালি ভেতরে প্রবেশ না করে।
More to read
Xiaomi 13 Lite Review: Exceptional Design Meets Unbeatable Camera
The Xiaomi 13 Lite combines a slim 171g design, a 120Hz AMOLED display, a flagship-grade 50MP camera, dual selfie cameras, and 67W fast charging into an appealing mid-range package.
Xiaomi 13 Ultra Review: What is so Ultra?
The Xiaomi 13 Ultra packs a 50MP 1-inch Leica camera, Snapdragon 8 Gen 2, a 6.73-inch LTPO OLED display, and a 5000mAh battery with 90W charging into a premium IP68 body. Here is whether it lives up to the hype.
Xiaomi 13T Review: New MidRange King?
The Xiaomi 13T brings a vegan leather design, 144Hz display, Dimensity 8200-Ultra performance, and Leica-tuned cameras to the mid-range. Here is whether it earns the mid-range crown.
Comments (0)
No comments yet. Be the first to share your thoughts!